রিপন হোসেন সাজু,মণিরামপুর (যশোর)।।বোরো সংগ্রহের সময়সীমা শুরু হয়ে একমাস দশ দিন পার হলেও মণিরামপুরে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে উদ্বোধন করা হয় ধান কেনার কার্যক্রম। উদ্বোধনের দিন মাত্র দুইজন কৃষক দুই মেট্রিক টন ধান গুদামে আনেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক গুদামে ভেড়েননি।
খোলাবাজারে ধানের দাম চড়া হওয়ায় কৃষক গুদামে আসছেন না বলে দাবি উপজেলা কৃষি অফিসসহ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার। তাছাড়া আবহাওয়ার প্রতিকূলতা, ধানে আর্দ্রতা বেশি থাকা, গুদামে জায়গার স্বল্পতার কারণে ধান সংগ্রহ করা যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের। তবে তালিকাভুক্ত কৃষকরা বলছেন, লটারিতে নাম আন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে তারা জানেন না।
সরেজমিন উপজেলার মাহমুদকাটি, কদমবাড়িয়া, রঘুনাথপুর ও জলকর রোহিতা এলাকার তালিকাভুক্ত একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। কৃষকদেরকে লটারির তালিকার বিষয়টি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বা মাইকিং করে জানানোর কথা থাকলেও সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।
এদিকে যথাসময়ে ধান সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় লটারি জেতা অনেক কৃষক ইতিমধ্যে ধান বিক্রি করে ধার-দেনা শোধ করেছেন। ফলে তাদের ঘরে ধান নেই। আবার উপজেলা ধান ক্রয় কমিটি যাদের কাছ থেকে এক টন ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই প্রান্তিক চাষি। যারা এক টন ধান উৎপাদন করতে পারেননি।
উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রামের তালিকাভুক্ত কৃষক আবুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী বলেন, লটারির ব্যাপারে তারা কিছু জানেন না। ধান যা উৎপাদিত হয়েছে, তা দিয়ে বছরের খোরাকি হবে। কিছু বিক্রি করে ধার দেনা শোধ করেছেন। অল্প কিছু ধান আছে। গুদামে সরকার যে দাম দিচ্ছে বাজারের দামও প্রায় একই। তাছাড়া গুদামে ধান দিতে চাইলে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়।
ফলে তারা গুদামে ধান দিতে আগ্রহী না।
রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক আমেনা বলেন, ‘লটারির ব্যাপারে জানিনে। আট কাঠা জমিতে ধান করে ছয় মণ পাইছি।’যদিও এই নারী কৃষকের নামে এক টন ধান বরাদ্দ করার অনুমতি মিলেছে। জলকর রোহিতা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, লটারির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।
চলতি বোরো মৌসুমে এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে মণিরামপুরে লটারির মাধ্যমে চার হাজার একজন কৃষকের কাছ থেকে মাথাপ্রতি এক টন করে চার হাজার এক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ধান কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল।
কিন্তু মণিরামপুরে ধান কেনার কাজ উদ্বোধন হয় প্রায় একমাস পর; ২০ মে। শুরুতেই সিদ্ধান্ত হয় লটারি বিজয়ী কৃষকেরা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে পারবেন। সেই হিসেবে এই পর্যন্ত ২৩ জন কৃষক ঋণ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা আবু মাসুদ। যদিও মাত্র দুইজন কৃষক গুদামে ধান দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক সরকার বলেন, বাজারে চিকন ধানের দাম এক হাজার টাকা মণ। আর গুদামে এক হাজার ৪০ টাকা। দুই স্থানে দাম প্রায় সমান হওয়ায় কৃষক গুদামে আসছেন না। তবে গুদামে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দাম পেলে কৃষক ধান নিয়ে আসবেন।
তিনি বলেন, ‘লটারির তালিকাভুক্ত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি আমরা চেয়ারম্যান,
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও গ্রামপুলিশ দিয়ে খবর পৌঁছে দিয়েছি।’ কিন্তু কৃষকরা লটারির বিষয়টি জানেন না কেন- এমন প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে উঠেন হীরক সরকার। উপজেলা ধান ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান বলেন, অনেক কৃষক গুদামে ধান পরীক্ষা করাতে আসছেন। আর্দ্রতা বেশি থাকায় তারা ধান দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ইউএনও এবং কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আগামী সপ্তাহে লটারির বিষয়টি গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে কৃষকদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
বোরো ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘লটারির বিষয়টি কৃষকদের জানানোর কথা কৃষি অফিসের। কেন জানায়নি সেই বিষয়ে এখনই খোঁজ নিচ্ছি।’